HSC এর পর বিদেশে পড়াশোনা: যেভাবে প্রস্তুতি নিবেন

HSC এর পর বিদেশে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা করছেন? কোথা থেকে কীভাবে শুরু সে সম্পর্কে ধারণা না থাকলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন।

কোথা থেকে শুরু করবো, কীভাবে প্রস্তুতি নেব, পছন্দের দেশে আগ্রহের সাবজেক্ট কীভাবে খুঁজবো, বিদেশে পড়াশোনার যোগ্যতা, খরচ সহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে সঠিক তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবো এই আর্টিকেলে।

যারা এইচএসসি শেষ করে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা এর জন্য যেতে চান তাদের জন্য আজকের আর্টিকেলটি। সম্পূর্ণ লেখাটি যদি মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে Higher Study Abroad বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা দূর হয়ে যাবে।

এই আর্টিকেলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করবো। এতে করে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কোন কাজের পরে কোন কাজটা করলে HSC এর পর বিদেশে পড়াশোনার প্রস্তুতি আরো গোছানো হবে।

HSC-এর পর বিদেশে পড়াশোনা করা উচিত?

বন্ধু, প্রতিবেশির ছেলে কিংবা পরিচিতজন বিদেশে পড়তে যাচ্ছে বলে আমাকেও যেতে হবে এই ধারণা থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া উচিত না। আপনি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছেড়ে কেন বিদেশে যাবেন তার একটা সঠিক ও যৌক্তিক কারণ উন্মোচন করতে হবে।

HSC এর পর বিদেশে পড়াশোনা করার বেশ কিছু সুবিধা আছে, সেই সাথে আছে কিছু অসুবিধা। আপনাকে জানতে হবে যে, এসব সুবিধা আসলেই আপনার প্রয়োজন কিনা এবং যেসব অসুবিধা হতে পারে সেগুলো মোকাবিলা করতে পারবেন কিনা।

বিদেশে ব্যাচেলর পড়ার সুবিধাসমূহ

  • বিদেশে পড়ার সবচেয়ে বড় যে সুবিধা তা হলো বিভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ।
  • নতুনভাবে ভাবতে শেখা এবং ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন দেশ থে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে। ফলে তাদের সাথে মিথস্ক্রিয়া তৈরি, ভিন্ন আঙ্গিক থেকে জীবনকে দেখার সুযোগ পাবেন।
  • বিদেশে পড়লে যোগাযোগ দক্ষতা বাড়বে। আপনি অবশ্যই ইংরেজি ভাষায় ভালো দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন, সেই সাথে ভিন্নধর্মী মানুষের সাথে মেশার সুবাদে যোগাযোগ দক্ষতা অন্যদের চেয়ে আরো ভালো হবে।
  • বিদেশি বিশ্ববিদ্যালগুলোতে যেসব শিক্ষার্থীরা পড়ার সুযোগ পায় তারা ক্যারিয়ার ও জীবন নিয়ে অনেক বেশি সিরিয়াস থাকে। এসকল মানুষের সাথে মেশার ফলে তাদের সাথে আপনার সুসম্পর্ক তৈরি হবে, যা কর্মক্ষেত্রে ভালো করার বহু সুযোগ এনে দেবে।
  • এগুলোর চেয়েও সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশ্বমানের শিক্ষকদের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ পাওয়া।

এতকিছুর বাইরেও কিছু অসুবিধা রয়েছে। অবশ্যই সবকিছুর ভালো-খারাপ দুইটা দিকই থাকে।

বিদেশে ব্যাচেলর পড়ার অসুবিধাসমূহ

  • নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সবারই কম-বেশি কষ্ট হয়। বিশেষ করে যারা HSC শেষ করে বিদেশে ব্যাচেলর পড়তে যান তারা এই সমস্যাটা বেশি মোকাবিলা করে।
  • সবার আর্থিক সক্ষমতা সমান নয়। বিদেশে পড়াশোনা করার খরচ বহনের সক্ষমতা আপনার পরিবারের আছে কিনা সেটা অবশ্যই বিবেচনা করবেন। আপনার পড়াশোনা করাটা যেন পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে না দাঁড়ায় সেদিকটাও বিবেচনা করা ভীষণ জরুরি।
  • আপনি জীবন নিয়ে সিরিয়াস কিনা সেটাও ভেবে দেখা উচিত। শুধু উন্নত বিশ্বে নিজেকে উপস্থাপন করা, অন্যদের চেয়ে নিজেকে আলাদা করে দেখানোই যেন উদ্দেশ্য না হয়।
  • আরো একটি বড় অসুবিধা হলো একাকী জীবন-যাপন করা। দেশের বাইরে গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবার বা পরিচিত কেউ থাকে না। ফলে সেখানকার সমস্ত কিছু নিজেকেই সামলাতে হয়। কখনো কখনো আপনি ভীষণ একাকী বোধ করতে পারেন। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া আগে ভেবে দেখুন এরকম পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলে নিতে পারবেন কিনা।

এইচএসসির পর বিদেশে পড়াশোনা করার উপায় কী?

বাংলাদেশ থেকে এইচএসসি, এ লেভেলস অথবা সমতূল্য পর্যায়ের শিক্ষা শেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অথবা বিশেষ ছাড় মূল্যে পড়ার সুযোগ দিয়ে থাকে।

এসবের দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার খরচ এবং থাকা-খাওয়ার খরচ বেশি হওয়ায় আমাদের দেশের সবারই ইচ্ছে থাকে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাওয়া।

আজকের এই আর্টিকেলে HSC এর পর বিদেশে পড়াশোনার গাইডলাইন শেয়ারের পাশাপাশি কীভাবে স্কলারশিপ পাবেন সে বিষয়েও তথ্য দেব। আশা করি তা অনেকের উপকারে আসবে।

HSC এর পর বিদেশে পড়াশোনার প্রস্তুতি

এবার আসুন জেনে নিই উচ্চমাধ্যমিক, A levels অথবা HSC এর পর বিদেশে পড়াশোনার প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন। এই অংশটা আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করবো।

প্রতি ধাপে প্রাসঙ্গিক ও পরামর্শমূলক তথ্য শেয়ার করার চেষ্টা করবো। এর বাইরেও ভালো ও কার্যকরী পরামর্শ থাকতে পারে। আপনি যেটাতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন সেটা অনুসরণ করতে পারেন।

১. পাসপোর্ট প্রস্তুত রাখা

শুধু বিদেশে পড়াশোনা নয়, ভ্রমণ, চিকিৎসা কিংবা যেকোনো প্রয়োজনে বিদেশে যেতে চাইলে যে কাগজটি সবার আগে প্রয়োজন হবে তা হলো একটা বৈধ পাসপোর্ট।

আপনি যদি দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে আজই অথবা যতটা দ্রুত সম্ভব পাসপোর্ট তৈরি করে ফেলুন।

আগে-ভাগে পাসপোর্ট তৈরি করে রাখার কয়েকটা সুবিধাও আছে। যেমন: এতে খরচ কমবে, বাড়তি কাগজপত্রের জটিলতা সমাধান করার যথেষ্ট সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হয়েছে। অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে ও ফি জমা দিয়ে আবেদন করা যায়। বিস্তারিত তথ্য পাবেন তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে

২. বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স পছন্দ করা

এ পর্যায়ে আপনার পছন্দ ও আগ্রহের বিষয়ের উপরে ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স খুঁজতে হবে। এজন্য কিছু ওয়েবসাইটের সরণাপন্ন হতে পারেন।

জার্মানে পড়তে চাইলে DAAD, UniAssist দুটো ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া যেকোনো দেশের কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজতে StudyPortal ওয়েবসাইটটা দেখতে পারেন।

পছন্দের একাধিক কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করবেন। সেগুলোর একটা তালিকা করবেন যেন তালিকার প্রথমে সবচেয়ে আগ্রহের বিষয় বা বিশ্ববিদ্যালয় থাকে। তারপরে ক্রমান্বয়ে কম আগ্রহের গুলো রাখবেন।

৩. একাডেমিক ফলাফল ভালো করা

অনেকেই বলে থাকেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য জিপিএ না সিজিপিএ বিষয় না। তাদের সাথে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করে বলতেই হয় জিপিএ একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আরো গুরুত্বপূর্ণ যখন স্কলারশিপের জন্য আবেদন করবেন।

তাই চেষ্টা করবেন একাডেমিক ফলাফল ভালো রাখতে। এতে যখন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন করবেন তখন এমন অনেকের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে থাকবেন যাদের একাডেমিক রেজাল্ট আপনার চেয়ে খারাপ।

অনেক চেষ্টার পরেও যদি রেজাল্ট খারাপ হয় তাহলে বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলামে যুক্ত হতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পাওয়া কিংবা স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে Extra-curriculum Activities বেশ ভালো সহায়ক ভূমিকা রাখে।

৪. IELTS এর প্রস্তুতি নেওয়া

ইউরোপ, আমেরিকার দেশগুলোতে পড়াশোনা করতে গেলে যে যোগ্যতা অবশ্যই লাগবে তা হলো IELTS এ ন্যূনতম ব্যান্ড স্কোর।

আইইএলটিএস (International English Language Testing System) হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার সনদ।

এতে ৪টি আলাদা আলাদা বিষয়ে একজনের ইংরেজি ভাষার দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়: Speaking, Listening, Reading, Writing. সর্বোচ্চ স্কোর থাকে ১০।

প্রতিটি সেগমেন্টে প্রাপ্ত ব্যান্ড স্কোরের গড় করে IELTS band score নির্ধারণ করা হয়।

কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি না হয়েও অনলাইনে ফ্রি অথবা পেইড কোর্স করে প্রস্তুতি আইইএলটিএস নেওয়া যায়। ইউটিউবে এ বিষয়ক অসংখ্য টিচারের ভিডিয়ো আছে। সেগুলো দেখতে পারেন।

IELTS এর পরীক্ষাটা হয় ব্রিটিশ কাউন্সিলের তত্বাবধানে ও নিয়মে। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

আর IELTS পরীক্ষা দিতে পরীক্ষার্থীর অবশ্যই একটা বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে। সেজন্য আগেই বলেছিলাম সময়-সুযোগ করে দ্রুত পাসপোর্ট তৈরি করে নিন।

৫. এক্সট্রা কারিকুলামে অংশ নেওয়া

HSC এর পর বিদেশে পড়াশোনা করতে চাইলে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ একাডেমিক লেখাপড়ার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে তা সবক্ষেত্রেই আপনাকে অতিরিক্ত সুবিধা দেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশি শিক্ষার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সিজিপিএ এর পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলো মূল্যায়ন করে থাকে।

আপনি পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক, গণিত অলিম্পিয়াড, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, খেলাধুলা, আবৃত্তি, প্রোগ্রামিং ইত্যাদি করতে পারেন।

আর যদি এসবে অংশগ্রহণ করে কোনো পুরষ্কার পেয়ে থাকেন তাহলে সেটা আরো ভালো। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার সময় উল্লেখযোগ্য অ্যাওয়ার্ড সম্পর্কে জানাতে পারেন।

৬. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সংগ্রহ করা

এই ধাপটা সবার শেষে উল্লেখ করছি তার মানে এই না যে এটা কম গুরুত্বপূর্ণ। অফিসিয়াল কোনো কাজ করতে গেলে যে ঝামেলায় সবাই কম-বেশি পড়ি তা হচ্ছে কাগজপত্র-জনিত সমস্যা।

সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজ সাবমিট করতে না পারলে আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়টি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে নিমিষেই।

সেজন্য পরামর্শ দেব, এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পরে যত দ্রুত সম্ভব হয় সকল পাবলিক পরীক্ষার সার্টিফিকেট, মার্কশীট, রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাডমিট কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ, এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ পাসপোর্ট সংগ্রহ করে রাখুন।

আগে থেকে সবকিছু গুছিয়ে রাখলে প্রয়োজনের সময় এদিক-সেদিক ছুটাছুটি করতে হবে। ফলে খুব স্মুথ একটা প্রিপারেশন নিতে পারবেন।

বিদেশে পড়াশোনা করার খরচ

বাংলাদেশের চেয়ে বিদেশে পড়াশোনা করার খরচটা কিছুটা বেশি। তবে এমন অনেক দেশ আছে যেগুলোতে অল্প খরচে পড়াশোনা করা যায়।

এরকম দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জার্মানি। জার্মানির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি ছাড়াই লেখাপড়া করা যায়। এখানে শুধু সেমিস্টার ফি, থাকা-খাওয়া ও ব্যক্তিগত খরচ বহন করে একজন শিক্ষার্থী তার উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাচেলর পড়ার জন্য একজন বিদেশি শিক্ষার্থীকে গড়ে ১৫ হাজার ডলার থেকে ২৫ হাজার ডলার খরচ করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও জীবনযাত্রার মান ভেদে এই ব্যয় ভিন্ন হতে পারে।

তবে আপনি চাইলে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়াশোনা করার খরচ কমাতে পারেন। এজন্য স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতে হবে।

বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা

বিদেশে পড়াশোনা করতে বিভিন্ন দেশের সরকার ও বেসরকারি সংস্থা শিক্ষাবৃত্তি বা Scholarship এর সুযোগ করে দেয়।

তবে আপনি আবেদন করলেই যে এসব বৃত্তির জন্য অনুমোদন পাবেন বিষয়টি সেরকম-ও নয়। বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে হবে এবং সেগুলো পূরণ করতে হবে।

  • আপনি যে স্তরেই পড়াশোনা করেন না কেন জিপিএ বা সিজিপিএ ভালো রাখতে হবে। স্কলারশিপ পেতে ভালো সিজিপিএ আপনাকে অনেক বেশি সাহায্য করবে।
  • যে বিষয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে চান সে বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকুন।
  • কোনো জার্নাল বা ম্যাগাজিনে লেখালেখির চেষ্টা করুন। বৃত্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সৃজনশীল শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। যে সকল শিক্ষার্থীর নিজস্ব লেখা কোথাও প্রকাশিত হয়েছে তারা অবশ্যই অন্যদের চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে।
  • ভাষাগত দক্ষতা স্কোর ভালো হতে হবে। ইংরেজি ভাষার জন্য IELTS, TOEFL এর পাশাপাশি যে দেশে বৃত্তির জন্য আবেদন করছেন সে দেশের ভাষাটাও শিখে রাখা উত্তম। যেমন আপনি যদি জার্মানিতে পড়তে চান তাহলে তাদের জার্মান ভাষাটাও শেখার চেষ্টা করুন। স্থানীয় ভাষা জানা শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পাবার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায়।
  • আপনার ইন্টার্নশিপ বা কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা আলাদা মাত্রা যোগ করবে। চেষ্টা করুন আগ্রহের বিষয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদী ইন্টার্নশিপ করতে।

এর বাইরে বিভিন্ন যোগ্যতা থাকে। সেগুলো বৃত্তির সার্কুলারে অবশ্যই উল্লেখ করা থাকে।

আর যারা HSC এর পর বিদেশে পড়াশোনা করতে চান তাদের তো ইন্টার্নশিপ বা চাকরি করার সুযোগ থাকে না। তারা এটি ব্যতিত অন্যান্য বিষয়ে ভালো করার চেষ্টা করুন।

কীভাবে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়াশোনা করবো?

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা জার্মানি সহ ইউরোপের দেশগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন স্কলারশিপের ব্যবস্থা থাকে। এমনকি ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপও আছে।

তবে যারা উচ্চমাধ্যমিকের পরে ব্যাচেলর পড়তে বিদেশে যেতে চান এবং স্কলারশিপ পেতে চান তাদের জন্য একটি অপছন্দের বাক্য হলো বিদেশে ব্যাচেলর পড়ার জন্য খুব একটা স্কলারশিপ পাওয়া যায় না।

একদমই যে স্কলারশিপের সুযোগ নেই, বিষয়টি তেমন নয়। তবে মাস্টার্স প্রোগ্রামে যে পরিমাণ স্কলারশিপের সুযোগ আছে তার চেয়ে কম সুযোগ দেওয়া হয় ব্যাচেলর প্রোগ্রামে।

স্কলারশিপের বিজ্ঞপ্তি ও বিভিন্ন তথ্য খুঁজে পাওয়ার জন্য অসংখ্য ওয়েবসাইটে রয়েছে। এরকম কয়েকটি ওয়েবসাইটে তালিকে নিচে দেওয়া হলো।

দেশওয়েবসাইট
জার্মানিDAAD
যুক্তরাষ্ট্রFull Bright Scholar
যুক্তরাজ্যChevening Scholarship
চীনCampus China
সকল দেশইউথ অপরচুনিটিজ

Frequently Asked Questions

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৫০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী বিদেশে পড়তে যায়। এবং এই সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উত্তর: IELTS স্কোর ও অন্যান্য যোগ্যতা থাকলে ইউরোপ, আমেরিকার সব দেশেই সহজে স্কলারশিপ পাওয়া যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, নরওয়ের মতো দেশগুলোতে তুলনামূলক সহজে স্কলারশিপ পাওয়া যায়। কারণ এসব দেশে স্কলারশিপের পরিমাণ বেশি থাকে।

আইইএলটিএস ছাড়া বিদেশে পড়তে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। আর IELTS করে বিদেশে যাওয়ার খরচ নির্ভর করে দেশ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রোগ্রাম ইত্যাদির উপরে।

অনেকের মধ্যেই এই ধারণাটা রয়েছে যে আইইএলটিএস বুঝি অনেক কঠিন। বিষয়টা মোটেও সেরকম না। IELTS এ ভালো স্কোর পাওয়া অধিকাংশই নির্ভর করে চর্চার উপরে। আপনি যত বেশি চর্চা করবেন এটি ততই সহজ হতে থাকবে।

বিদেশে পড়তে যাওয়ার পথে আর্থিক স্বচ্ছলতা একটা বড় বাধা। আর এই বাধা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে ফুল ফ্রি স্কলারশিপ। বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিম্ন ও নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে শিক্ষার্থীদের ফুল ফ্রি স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। এছাড়া যারা যুক্তরাজ্যে পড়তে চান তাদের জন্য কমনওয়েলথ স্কলারশিপ এই সুযোগ দেবে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে যেসব দেশ সেগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি।

Bachelor বা HSC এর পর বিদেশে পড়াশোনা করতে IELTS খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইউরোপ ও আমেরিকার বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে ন্যূনতম IELTS band score 6.5 প্রয়োজন হয়। তবে কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে 6.0 দিয়েও আবেদন করা যায়।

কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় ঠিকঠাক থাকলে সব দেশেই স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া যায়। তবে বাংলাদেশ থেকে জার্মানি, ভারত, আয়ারল্যান্ড, ইতালির মতো দেশে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া সহজ।

পরবর্তী আর্টিকেল পূর্ববর্তী আর্টিকেল
কোনো কমেন্ট নেই
কমেন্ট লিখুন
comment url
নোটিফিকেশন
আমাদের ওয়েবসাইটের জন্য গেস্ট পোস্ট আহবান করা হচ্ছে। আপনি যদি গেস্ট পোস্ট করে ব্যাকলিংক নিতে আগ্রহী হোন তাহলে যোগাযোগ করুন।
বন্ধ করুন