এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখার নিয়ম: Master Guideline

আর্টিকেল লেখার নিয়ম নিয়ে আমাদের অনেকের মাঝেই বিভিন্ন প্রশ্ন ও কনফিউশান থাকে। আপনি যদি জানতে চান কীভাবে ব্লগ পোস্ট লিখতে হয় তাহলে আজকের এই মাস্টার গাইডলাইনটি আপনার জন্য প্যারাসিটামল।

SEO friendly article লেখা আর পত্রিকা কিংবা অন্যকোথাও লেখা ভিন্ন বিষয়। পত্রিকা বা প্রিন্ট মিডিয়ায় লিখতে জানলেই যে আপনি ব্লগ পোস্ট লিখে সার্চ ইঞ্জিন থেকে অনেক ভিজিটর পাবেন বিষয় একদমই সেরকম না।

একটা লেখাকে গুগল কিংবা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেইজে আনতে অনেক পদ্ধতি, কৌশল ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

এই ব্লগে সেসব পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আলোচনা করবো। আপনি যদি নতুন কনটেন্ট রাইটার হয়ে থাকেন তাহলে এই আর্টিকেল থেকে আপনি যথেষ্ট উপকৃত হবেন বলে আমি আশা করি।

আর্টিকেল লেখার নিয়ম

হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল লিখতে আপনাকে অনেকগুলো ধাপ পার করতে হবে। এখানে আর্টিকেল লেখার যেসব নিয়ম উল্লেখ করবো সেগুলো মেনে আপনি ব্লগ পোস্ট লিখতে পারবেন এবং কনটেন্ট রাইটিং করে আয় করতেও পারবেন।

ব্লগ বা আর্টিকেল লেখার পূর্বে দুইটা কাজ করা বেশ জরুরি। প্রথমটা বাধ্যতামূলক এবং দ্বিতীয়টা আপনাকে পুরো আর্টিকেল লেখার জার্নিতে সহায়তা করবে।

এই দুইটা কাজ হলো ১. কিওয়ার্ড রিসার্চ এবং ২. আউটলাইন তৈরি।

কিভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হয়?

হাই কোয়ালিটি ও SEO-friendly আর্টিকেল লেখার প্রথম নিয়ম হলো সঠিকভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করা।

গুগলে সার্চ করা হয় এমন লাখ লাখ কিওয়ার্ড রয়েছে। তবে আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে কোন কিওয়ার্ডটা আপনার ওয়েবসাইটের জন্য সবচেয়ে পারফেক্ট হবে।

অনলাইনে অনেক কিওয়ার্ড রিসার্চ টুল রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনার কাঙ্ক্ষিত কিওয়ার্ড খুঁজে পেতে পারেন।

এমন কয়েকটি Free Keyword Research Tools হলো:

  • Ahrefs
  • Ubersuggest
  • Keyword Surfer
  • Keyword Planner

এছাড়াও আরো কিছু প্রিমিয়াম কিওয়ার্ড রিসার্চ টুল আছে। যেমন:

  • SEMrush
  • Keywordtool.io
  • Keyword Everywhere

ব্লগের জন্য কিওয়ার্ড খুঁজতে নিচের এই দুইটি কৌশল ব্যবহার করতে পারেন।

১. Low Competitive কিওয়ার্ড নিন

এসব টুল ব্যবহার করে সহজেই এমন কিওয়ার্ড খুঁজে বের করতে পারবেন যেগুলোর সার্চ ভলিউম বেশি কিন্তু কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টি কম। অর্থাৎ সেই সব কিওয়ার্ড যেগুলোতে কম্পিটিশন কম।

যেসব কিওয়ার্ড বেশি শব্দের সেগুলো সাধারণত কম কম্পিটিভ হয়। সেজন্য আপনি যদি নতুন অবস্থায় Long tail কিওয়ার্ড নিয়ে আর্টিকেল লেখেন তাহলে সেটা র‍্যাঙ্ক করার সম্ভাবনা অনেকগুন বেড়ে যায়।

উপরের ছবিতে দেখুন আর্টিকেল কিওয়ার্ডের এসইও ডিফিকাল্টি 54 কিন্তু আর্টিকেল কাকে বলে কিওয়ার্ডের সার্চ ডিফিকাল্টি 34।

Short-tail কিওয়ার্ডের চেয়ে Long-tail কিওয়ার্ডের সার্চ ভলিউম সাধারণত কম থাকে। তবুও আপনি যেহেতু নতুন কনটেন্ট রাইটার সেহেতু প্রথমে কম্পিটিশন কম এরকম কিওয়ার্ড বাছাই করলে গুগলে দ্রুত র‍্যাঙ্ক পাবেন।

২. প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড বাছাই করুন

আপনি যে একটি কিওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে আর্টিকেল লিখবেন সেটাকে বলা হয় Focus Keyword বা Primary Keyword. এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখতে হলে শুধু একটা কিওয়ার্ড ব্যবহার করলেই চলবে না।

মূল কিওয়ার্ড এর পাশাপাশি আরো অনেকগুলো Secondary Keyword নিতে হবে। এগুলো বিভিন্ন সময় Paragraph, H3, H2 ট্যাগের মধ্যে লিখতে হবে।

এরকম Relevant কিওয়ার্ড খুঁজে পেতে গুগলের সহায়তা নিতে পারেন। আপনার মূল কিওয়ার্ডটা লিখে গুগলে সার্চ করলে গুগল আরো কিছু কিওয়ার্ড সাজেস্ট করবে যেগুলো লিখে অন্যরা সার্চ করে।

এছাড়াও কিওয়ার্ড টুলগুলোর মাধ্যমেও এসব কিওয়ার্ড খুঁজে পাবেন। প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ডগুলো যেন অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

আউটলাইন তৈরি করার পদ্ধতি কী?

Outlines হলো কোনো বিস্তারিত বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ। আর কনটেন্ট আউটলাইন হলে আপনি যে আর্টিকেল লিখবেন সেটার সারসংক্ষেপ।

আমি কোনো বিষয়ে কিওয়ার্ড রিসার্চ করার পরে এবং  আর্টিকেল লেখার আগে একটা আউটলাইন তৈরি করে নিই। আর্টিকেলের টাইটেল, কয়টা হেডিং ও সাবহেডিং, কী কী হেডিং থাকবে ইত্যাদি সমস্ত বিষয় সংক্ষেপে উল্লেখ থাকে।

একটা এসইও ফ্রেন্ডলি ও হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল লিখতে আউটলাইনের ভূমিকা ব্যাপক। এটাকে এমনভাবে সাজাবেন যেন Focus keyword-টা পুরো আর্টিকেলে অন্তত ২/৩ টা হেডিংয়ের মধ্যে থাকে।

উপরের ছবিতে খেয়াল করুন আমার মূল কিওয়ার্ড হলো HSC এর পর বিদেশে পড়াশোনা, এটাকে কেন্দ্র করে একাধিক লং-টেইল কিওয়ার্ড খুঁজে নিয়েছি এবং সেগুলো আর্টিকেলের সাব-হেডিং হিসেবে ব্যবহার করে আউটলাইন বানিয়েছি।

একটা সুন্দর আউটলাইন থাকলে আরেকটি সুবিধা হলো- লেখার সময় এদিক ওদিক ভাবতে হয় না, কাজে গতি বজায় রাখা যায়।

ব্লগে আর্টিকেল লেখার নিয়ম

যখন আপনি আর্টিকেল লেখা শুরু করবেন তখন কতগুলো বিষয় মাথায় রাখলে আপনার লেখার মান অনেকগুণ বেড়ে যাবে।

এসইও অপ্টিমাইজড বাংলা আর্টিকেল লেখার নিয়ম ও প্রক্রিয়া-

  1. আকর্ষণীয় ও SEO ফ্রেন্ডলি টাইটেল লেখা
  2. সুন্দর ও আকর্ষণীয় Introduction লেখা
  3. কিওয়ার্ড-যুক্ত একাধিক Sub-headings লেখা
  4. ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ লেখা
  5. সঠিকভাবে কিওয়ার্ড প্লেসমেন্ট করা
  6. সারাংশ বা Conclusion লেখা
  7. FAQs অংশে কিওয়ার্ড-যুক্ত প্রশ্নোত্তর লেখা
  8. লেখাকে Search Engine Optimization করা
  9. প্লেজারিজম চেক করা

১. আকর্ষণীয় ও SEO ফ্রেন্ডলি টাইটেল লিখুন

একটা আর্টিকেল গুগলে র‍্যাঙ্ক করার পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা থাকে আর্টিকেলের টাইটেল এর। একজন ব্যবহারকারী আপনার লেখাটি পড়ার জন্য ক্লিক করবে কিনা সেটি নির্ভর করে টাইটেলের উপরে।

সুতরাং ব্লগ টাইটেল অবশ্যই আকর্ষণীয় ও SEO-friendly হতে হবে। মনে করুন আমার আর্টিকেলের ফোকাস কিওয়ার্ড হচ্ছে ব্লগিং করে আয়। তাহলে আমি টাইটেলে ব্লগিং করে আয় করার ৫টি কৌশল লিখতে পারি।

টাইটেলে মূল কিওয়ার্ড ব্যবহার করার পাশাপাশি এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছি যা পাঠককে উৎসাহিত করবে। তবে আকর্ষণীয় টাইটেল লিখতে গিয়ে তা যেন clickbait না হয় সেদিকেও নিজর দিতে হবে। যেমন: প্রতি মাসে ব্লগিং করে আয় ১০ লাখ একটি ক্লিকবেইট টাইটেলের উদাহরণ।

ব্লগের টাইটেল ৬০ বর্ণের চেয়ে লম্বা হবে না। কারণ গুগল টাইটেলের ৬০ বর্ণের বেশি crawl করে না। মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে ব্লগিং করে আয় করুন প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকার বেশি এটি ৬৭ বর্ণের টাইটেল।

আপনার ব্লগের টাইটেল যদি এমন লম্বা হয় তাহলে গুগল প্রথম ৬০ বর্ণ পর্যন্ত ক্রল করবে এবং বাকিটা ক্রল করবে না। সুতরাং টাইটেল ৬০ বর্ণের কম হলে ভালো, তবে সর্বোচ্চ ৬০ বর্ণ হতে পারে। এর বেশি নয়।

২. সুন্দর ও আকর্ষণীয় Intro লেখা

কোনো পাঠক একটা আর্টিকেল পড়বে কিনা তা আর্টিকেলের প্রথম কয়েক প্যারা বা ইন্ট্রোডাকশন পড়েই নির্ধারণ করে ফেলে।

আর্টিকেলের শুরুতে একটা Introduction বা সূচনা প্যারা থাকা উচিত। সেখানে কোনো একটা গল্প, উদাহরণ বা যে বিষয়ে আলোচনা হবে তার সারসংক্ষেপ লিখতে পারেন।

আর্টিকেলের প্রথম ১০০ শব্দ SEO এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। SEO Optimized আর্টিকেল লেখার নিয়ম হিসেবে প্রথম ১০০ শব্দের মধ্যে অন্তত একবার ফোকাস কিওয়ার্ড লিখতে হবে।

চেষ্টা করবেন ফোকাস কিওয়ার্ডটা যেন একদম শুরুতেই লেখা যায়। খেয়াল করলে দেখবেন আমার এই আর্টিকেলের একদম শুরুতেই একবার ফোকাস কিওয়ার্ড লিখেছি এবং সেটা বোল্ড করে দিয়েছি।

এর ফলে সার্চ ইঞ্জিন সহজেই বুঝতে পারে আমার লেখাটি কী বিষয়ে। কেউ কিওয়ার্ডটা লিখে সার্চ করলে এই আর্টিকেলটি গুগলের প্রথম পেইজে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

৩. কিওয়ার্ড-যুক্ত সাব-হেডিং লেখা

কিওয়ার্ড রিসার্চ অংশে বলেছিলাম, কীভাবে মূল কিওয়ার্ডের সাথে প্রাসঙ্গিক আরো অনেক long-tail কিওয়ার্ড খুঁজে পাবেন।

এসব লং-টেইল কিওয়ার্ড দিয়ে সাব-হেডিং লিখতে হবে। এছাড়াও মূল কিওয়ার্ডটা যেন অন্তত ২-৩টা সাব-হেডিংয়ে থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সাব-হেডিংগুলো H2, H3 ট্যাগের মধ্যে লিখতে হবে।

একটা আর্টিকেলে সাধারণত অনেকগুলো সাব-হেডিং থাকে। এগুলোর অধীনে অনেকগুলো প্যারাগ্রাফ থাকে। পুরো আর্টিকেলটা একবারে লেখা শেষ না করে, প্রতিটা সাব-হেডিং আলাদা আলাদাভাবে রিসার্চ করে লিখতে পারেন।

৪. ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ লেখা

ব্লগের মূল অংশই হচ্ছে এর প্যারাগ্রাফ। পুরো আর্টিকেলটা অনেকগুলো ছোট ছোট প্যারায় লিখলে তা একদিকে যেমন এসইও ফ্রেন্ডলি হয়, অন্যদিকে পাঠকরা পড়তে বিরক্ত হয় না।

একটা প্যারা অনেক লম্বা হলে তা পাঠকদের পড়তে বিরক্ত লাগে। অনেক বড় লেখা পড়তে আমরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না।

সেজন্য লম্বা লেখাকে ছোট ছোট প্যারায় ভাগ করা থাকলে পড়ার মধ্যে বিরতি দেওয়া যায়। একঘেয়েমি চলে আসে না। একটি প্যারায় ৩-৪ লাইন বাক্যের বেশি না লেখাই উত্তম।

প্রয়োজন অনুযায়ী বুলেট বয়েন্ট বা নাম্বার পয়েন্ট ব্যবহার করবেন। তাতে উপস্থাপন যেমন সুন্দর হবে, সার্চ ইঞ্জিনের জন্যও ইতিবাচক।

৫. সঠিকভাবে কিওয়ার্ড প্লেসমেন্ট করা

একটা লেখাকে গুগলে র‍্যাঙ্ক করানোর জন্য Keyword placement খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঠিকভাবে কিওয়ার্ড লেখার মাধ্যমেই On-page SEO এর সিংহভাগ সম্পন্ন হয়ে যায়।

আর্টিকেল লেখার সময় প্যারাগ্রাফের মধ্যে ন্যাচারাল ভাবে মূল কিওয়ার্ড ও অন্যান্য রিলেভ্যান্ট কিওয়ার্ড প্লেস করতে হবে।

কিওয়ার্ডগুলো এমনভাবে লিখতে হবে যেন মনে না হয় যে জোরপূর্বক কিওয়ার্ড প্লেস করা হয়েছে। অর্থাৎ খুব ন্যাচারালি লিখতে হবে।

কোনো আর্টিকেলে একই কিওয়ার্ড অধিকবার লেখা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি কম লেখাও লাভজনক নয়। এটা একটা ভারসাম্য পরিমাণে রাখতে হবে।

একটা আর্টিকেলে কতবার ফোকাস কিওয়ার্ড লেখা হয়েছে তার শতকরা হারকে Keyword Density বলে। অনেক বেশিবার কিওয়ার্ড লিখলে সেটাকে Keyword Stuffing বলে, যা Black Hat SEO এর অংশ।

গুগল যদি কখনো বুঝতে পারে আপনি ব্ল্যাক হ্যাট এসইও অনুসরণ করছেন তাহলে আপনার কনটেন্ট গুগল পেনাল্টি দিতে পারে বা ওয়েবসাইটের গ্রোথ কমিয়ে দিতে পারে।

কিওয়ার্ড ডেনসিটির আদর্শ মান নেই। তবে এসইও স্পেশালিস্টরা পরামর্শ দেয় কিওয়ার্ড ডেনসিটি ১-১.৫% রাখতে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ ওয়ার্ড লেখায় ১ বার লিখতে হবে এবং প্রতি ১০০০ ওয়ার্ড আর্টিকেলে ১০-১৫ বার ফোকাস কিওয়ার্ড লিখলে হবে।

চেষ্টা করবেন আর্টিকেলের শুরুতেই একবার মূল কিওয়ার্ডটা লিখতে এবং সেটা Bold করে দিবেন। যেমনটা আমি এই লেখার শুরুতে করেছি।

৬. সারাংশ - Conclusion লেখা

পুরো আর্টিকেলের শেষে একটা Conclusion বা সারাংশ অংশ লেখা উচিত। এই অংশে সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু সংক্ষেপে সামারাইজ করবেন।

এছাড়া কোনো পরামর্শ, বিশেষ নোট বা নির্দেশনা থাকলে সেটাও উল্লেখ করতে পারেন। এর পাশাপাশি ব্লগে পাঠকদের অ্যাঙ্গেজমেন্ট বাড়াতে কমেন্ট করার জন্য বলতে পারেন।

কোনো ব্লগে একই পাঠকের সংখ্যা যত বাড়বে সেই ব্লগের অথরিটি তত শক্তপোক্ত হবে।

ব্লগের শেষ অংশে আরেকবার মূল কিওয়ার্ডটা লিখবেন। এতে সার্চ ইঞ্জিনের রোবট আপনার লেখার টপিক আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবে।

৭. FAQ অংশে লং-টেইল কিওয়ার্ড লেখা

আর্টিকেলের কোয়ালিটি ও পাঠকের প্রত্যাশা পূরণ করতে Frequently Asked Questions বা FAQs এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

এই অংশে আপনি মূল কিওয়ার্ডের সাথে প্রাসঙ্গিক ও প্রশ্নবোধক অন্যান্য  লং-টেইল কিওয়ার্ডগুলোর এক কথায় উত্তর লিখতে পারেন।

এমন কিওয়ার্ডগুলো গুগলের মাধ্যমে খুঁজে পাবেন। গুগলে মূল কিওয়ার্ডটা লিখে সার্চ দিলে People also ask নামে একটা অংশ পাবেন।

এই কিওয়ার্ডগুলো H3 ট্যাগের মধ্যে লিখবেন এবং সেগুলোর উত্তর P ট্যাগের মধ্যে লিখবেন। সম্ভব হলে FAQ Schema ব্যবহার করতে পারেন। সেটা সার্চ ইঞ্জিনের জন্য আরো বেশি উপযোগী।

আর্টিকেল SEO Optimize করবো কীভাবে?

আগেই বলেছি, পত্রিকায় প্রকাশিত লেখা আর ব্লগে প্রকাশিত লেখার মধ্যে মূল পার্থক্য হলো- ব্লগে আকর্ষণীয় বাক্য, প্যারাগ্রাফ লেখার পাশাপাশি সেটাকে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাঙ্কের উপযোগী করতে হয়।

ব্লগে আর্টিকেল লেখার নিয়ম এর মধ্যে Search Engine Optimization অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটা একটা বিস্তর বিষয়।

তবে এই অংশে আমরা শুধু On-page SEO নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করবো। কারণ এর বিস্তারিত নিয়ে আরেকটা আর্টিকেল প্রকাশ করা হবে।

কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরণ করে আর্টিকেলের অন-পেইজ এসইও করতে পারেন। সেগুলো হলো-

১. সঠিকভাবে মেটা ডেসক্রিপশন লিখুন

এটি হলো কোনো আর্টিকেলের সারাংশ। তবে মেটা ডেসক্রিপশন লেখা হয় পাঠকের জন্য নয়, বরং সার্চ ইঞ্জিনের জন্য।

মেটা ডেসক্রিপশন crawl করার মাধ্যমে কোনো ওয়েবপেইজের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সার্চ ইঞ্জিন ধারণা পায়। এটি অন-পেইজ এসইও এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Meta Description এর দৈর্ঘ্য হবে ১৫৫-১৬০ বর্ণ। এখানে অন্তত একবার আপনার মূল কিওয়ার্ডটা লিখতে হবে। এছাড়া এখানে কোনো প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারেন।

২. ইন্টার্নাল ও এক্সটার্নাল লিংকিং করুন

Internal Link বলতে বোঝায় একটি আর্টিকেলের মধ্যে একই ওয়েবসাইটের অন্যকোনো পেইজের লিংক যুক্ত করা।

আর External Link বলতে বোঝায় আর্টিকেলের মধ্যে অন্য কোনো ওয়েবসাইটের লিংক যুক্ত করা।

লিংক বিল্ড করা এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখার নিয়ম এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। আর্টিকেলে যত বেশি ইন্টার্নাল ও এক্সটার্নাল লিংক যুক্ত করতে পারবেন সেটা একদিকে SEO এর জন্য ভালো, অন্যদিকে এটা ওয়েবসাইটের Page Authority বাড়ায়।

তবে লিংক তৈরির ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন অপ্রাসঙ্গিক কোনো পেইজের লিংক যুক্ত করা যাবে না। অর্থাৎ আপনার কিওয়ার্ড বা টপিকের সাথে relevant অন্য কোনো পেইজের লিংক যুক্ত করবেন।

যেমন ধরুন, আপনি একটা আর্টিকেল লিখছেন এআই টেকনোলজি নিয়ে, কিন্তু এমন একটি আর্টিকেলের লিংক যুক্ত করলেন যেটা গার্ডেনিং বিষয়ক।

৩. ইমেজ অপ্টিমাইজ করুন

ব্লগের জন্য উপযোগী Copyright free ছবি যুক্ত করা এবং সেসব ছবিকে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য উপযোগী করে তোলাকে Image Optimization বলে।

ব্লগে ইমেজ ব্যবহার করতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা উচিত। সেগুলো হলো নিম্নরূপ:

  • JPG, JPEG ফরম্যাটের ছবি ব্যবহার না করে WEBP ফরম্যাটে ইমেজ আপলোড করুন।
  • ছবির অপ্রয়োজনীয় ও বাড়তি অংশ crop করে বাদ দিয়ে দিন। যেটুকু প্রয়োজন শুধু সেটুকুই রাখুন। এতে ছবির সাইজ ছোট হবে।
  • কম সাইজের ছবি আপলোড করলে ওয়েবসাইটের স্পিড ঠিক থাকে। ছবির সাইজ আরো কমাতে Image Compressor টুল ব্যবহার করতে পারেন।
  • ব্লগে ছবি যুক্ত করার পরে তার জন্য Alter Tag, Title, Caption লিখুন। এসবের প্রত্যেকটায় ফোকাস কিওয়ার্ড ও পাশাপাশি অন্য শব্দ লিখবেন।

এই টেকনিকগুলোর মাধ্যমে ব্লগের ইমেজকে অপ্টিমাইজ করা যায়।

কপিরাইট ফ্রি স্টক ছবি পেতে Pexels, Pixabay, Shutterstock, Freepik ওয়েবসাইট ও AI এর সহযোগিতা নিতে পারেন। পাশাপাশি PixelLab, Canva, Phtoto Editor অ্যাপের মাধ্যমে সেসব ইমেজকে কাস্টমাইজড করে নিতে পারেন।

৪. সঠিকভাবে URL লিখুন

সার্চ ইঞ্জিন কোনো ওয়েবপেইজের যেসব জিনিস ক্রল করে তার মধ্যে অন্যতম হলো URL, যা হতে হবে SEO Optimized।

ব্লগের URL হতে হবে সংক্ষিপ্ত এবং ফোকাস কিওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত হবে। লম্বা ইউআরএল যথাসম্ভব এড়িয়ে যেতে হবে। এছাড়া a, the, to, of, for, or ইত্যাদির মতো শব্দ লেখা থেকে বিরত থাকুন।

আপনার আরেটিকেল যদি ইংরেজিতে হয় তাহলে URL ইংরেজিতে লিখবেন। আর যদি বাংলায় হয় তাহলে URl বাংলায় লিখতে পারেন। তবে সবচেয়ে ভালো হয় ইংরেজিতে লিখলে। একাধিক শব্দকে যুক্ত করতে হাইফেন (-) ব্যবহার করুন।

আর্টিকেলের প্লেজারিজম চেক করার নিয়ম

আর্টিকেল লেখার নিয়ম জেনে ও মেনে কনটেন্ট লিখলেন কিন্তু তাতেও দেখবেন কিছু কিছু বাক্য Plagiarism দেখায়।

কোনো লেখা ৫-১০% প্লেজারিজম বা কপি হলে তাতে খুব বড় ধরনের সমস্যা হয় না। তবে চেষ্টা করা উচিত সম্পূর্ণ Plagiarism free আর্টিকেল লেখার।

অনলাইনে অনেক টুল আছে যার মাধ্যমে কপি কনটেন্ট চিহ্নিত করা যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো Copyleaks, Duplichecker, Quetext, SEMrush ইত্যাদি।

এসব টুলে আপনার লেখা কপি করে পেস্ট করলে কোন অংশ কপি বা অন্য লেখার সাথে মিলে যায় তা চিহ্নিত করতে পারবে। আপনি সে অংশের বাক্যগুলো একটু ভিন্নভাবে লিখলে ঠিক হয়ে যাবে।

কনটেন্ট রাইটিং করার নিয়ম

বাংলা কিংবা ইংরেজি, যেকোনো ভাষায় content writing করার বেশ কিছু কৌশল আছে। এসব কৌশল অনুসরণ করে আপনাকে পাঠক ও সার্চ ইঞ্জিনের জন্য আরো বেশি উপযোগী করে তুলতে পারবেন।

এসব কৌশলের মধ্যে সবগুলোই যে পরীক্ষিত বা সবাই সবগুলো ব্যবহার করে বিষয়টা সেরকম না। আমি কনটেন্ট রাইটিং এর যেসব নিয়ম অনুসরণ করি সেগুলো হলো-

  • Paragraph গুলো অনেক দীর্ঘ না করে ছোট ছোট করে লেখা।
  • সুবিধা ও প্রয়োজন অনুযায়ী বুলেট পয়েন্ট, চার্ট, ডায়াগ্রাম ও ছবি ব্যবহার করা।
  • একই টপিকে ইন্টারনেটে একাধিক আর্টিকেল পড়া। তাহলে লেখা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
  • প্রতিটি সাব-হেডিং সম্পর্কে আলাদাভাবে রিসার্চ করা এবং বিরতি নিয়ে লেখা।
  • কঠিন ও গুরুগম্ভীর ভাষা এড়িয়ে সহজ ও সকলের বোধগম্য ভাষায় আর্টিকেল লেখা।
  • পাঠকের চাহিদা ও প্রশ্নের উত্তর পূরণ হবে এমন বিষয় উপস্থাপন করা।
  • অপ্রয়োজনীয় কথা এড়িয়ে যাওয়া। বিষয়বস্তুর সাথে প্রাসঙ্গিক নয় এমন বিষয়ে কিছ না লেখাই উত্তম। এতে পাঠক বিরক্তবোধ করতে পারে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি এগুলো খেয়াল রাখি। আপনারাও বিবেচনা করতে পারেন, পাশাপাশি অন্যান্য রাইটারদের কৌশলগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

সারাংশ - Conclusion

আর্টিকেলটা সম্পূর্ণ পড়েছেন তো? পড়লে নিশ্চয়ই উপকৃত হয়েছেন। আজকে আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে খুটিনাটি তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

এই বিষয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে তা নিচের কমেন্ট সেকশনে জানাতে পারেন। আপনাদের সকল প্রশ্নের যথাসম্ভব সঠিক উত্তর দেওয়া চেষ্টা করি।

Frequently Asked Questions

আর্টিকেল লেখার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম কাজ হলো আপনার ওয়েবসাইটের সাথে প্রাসঙ্গিক টপিক খুঁজে বের করা। এরপরে সেই টপিক অনুযায়ী কিওয়ার্ড রিসার্চ করে কিওয়ার্ড বাছাই করা।

একটি মানসম্মত ও ভালো আর্টিকেল লেখার সময় সম্ভাব্য পাঠকদের মাথায় রাখা উচিত। আপনার পাঠকরা আসলে কী পড়তে চায়, তাদের কী কী তথ্য প্রয়োজন হতে পারে এটাকে মাথায় রেখে কন্টেন্ট লিখতে হবে।

পরবর্তী আর্টিকেল পূর্ববর্তী আর্টিকেল
কোনো কমেন্ট নেই
কমেন্ট লিখুন
comment url
নোটিফিকেশন
আমাদের ওয়েবসাইটের জন্য গেস্ট পোস্ট আহবান করা হচ্ছে। আপনি যদি গেস্ট পোস্ট করে ব্যাকলিংক নিতে আগ্রহী হোন তাহলে যোগাযোগ করুন।
বন্ধ করুন