একাউন্টিং সাবজেক্ট রিভিউ: চাকরির সুযোগ কেমন?

একাউন্টিং সাবজেক্ট রিভিউ: আসসালামু আলাইকুম! আপনি কি হিসাববিদ্যায় ক্যারিয়ার গড়তে চান? তাহলে এই ব্লগটি আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহযোগিতা করবে।

পাবলিক, প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে সারা বাংলাদেশে লক্ষাধিক একাউন্টিং গ্র‍্যাজুয়েট রয়েছে। আবার যারা সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে স্নাতক পর্যায়ে একাউন্টিং বিষয়ে পড়তে আগ্রহী তারা অনেকেই একাউন্টিং সাবজেক্ট কেমন তা জানতে চান।

হিসাববিজ্ঞান বা একাউন্টিং নিয়ে পড়লে কী কী চাকরির সুযোগ আছে। ছাত্রজীবনে একাউন্টিং শিখে কীভাবে টাকা আয় করা যায় সেসব বিষয়েই আলোচনা করবো আজকের ব্লগে।

হিসাববিজ্ঞান বা একাউন্টিং কী?

মূল আলোচনা শুরু করার পূর্বেই Accounting কী তা জেনে নেওয়া যাক। যদিও এই লেখার অধিকাংশ পাঠকই এ বিষয়টা জানেন। তবে যারা জানেন না তাদের উদ্দেশ্য এই অংশটা।

Accounting বা হিসাববিজ্ঞান হলো এমন একটি তথ্য ব্যবস্থা যাতে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের লেনদেন চিহ্নিত করা, লিপিবদ্ধ করা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত ও সরবরাহ করা হয়।

পৃথিবীর এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে আর্থিক লেনদেন হয় অথচ হিসাববিজ্ঞানের প্রয়োগ নেই। হাজার টাকার মুদি দোকান থেকে শুরু করে কোটি টাকার বিশাল ব্যবসায় কার্যক্রমে প্রতিনিয়ত হিসাববিজ্ঞানের ব্যবহার হচ্ছে। তবে আর্থিক লেনদের পরিমাণের উপরে ভিত্তি করে ব্যবহারিক প্রয়োগের মাত্রা ভিন্ন হয়ে থাকে।

একাউন্টিং পড়লে চাকরির সুযোগ কেমন?

যারা একাউন্টিং বিষয়ে ব্যাচেলর পড়ছেন কিংবা পড়তে আগ্রহী তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি জাঁগে তা হলো অনার্সে Accounting পড়লে চাকরির সুযোগ কেমন।

বিবিএ (Bachelor of Business Administration) এর যতগুলো সাবজেক্ট রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও চাহিদাপূর্ণ সাবজেক্ট হলো একাউন্টিং। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে ফাইন্যান্স, ম্যানেজমেন্ট ও মার্কেটিং।

আপনার যদি একাউন্টিং বিষয়ে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি থাকে তাহলে অন্যদের চেয়ে এমন অনেক জব অপরচুনিটি পাবেন যেগুলোতে একাউন্টিং ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক।

একাউন্টিং পড়লে কী কী চাকরি করার সুযোগ পাওয়া যায় সে সম্বন্ধে আলোচনা করবো। তার আগে চাকরির ক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা নিই।

একটা দেশীয় ছোট ও মাঝারি আয়তনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ে ও বিভিন্ন পদে একাউন্টিং ডিগ্রি সম্পন্ন ব্যক্তি নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Accounting Assistant, Bookkeeper, Account Manager, Auditor প্রভৃতি।

একটা প্রতিষ্ঠানে একই পোস্টের একাধিক কর্মী থাকে। তাছাড়া বিদেশি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে এই ধরনের কর্মীর সংখ্যাও বেশি। এসব পদে শুধু সে সকল ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয় যাদের ব্যাচেলর অথবা মাস্টার্সের Major Subject একাউন্টিং।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন একাউন্টিং বিষয়ে পড়লে চাকরির সুযোগ কেমন হতে পারে।

শুধু যে বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরির সুযোগ রয়েছে তা নয়। অনেক বড় বড় সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো একাউন্ট্যান্ট ছাড়া পরিচালনা করা অসম্ভব প্রায়।

একাউন্টিং পড়লে কী কী চাকরি পাওয়া যায়?

অন্যান্য অনেক বিষয় রেখে একাউন্টিং পড়লে আপনার কাজের সুযোগ কেমন হতে পারে সে সম্পর্কে নিশ্চয়ই একটা ধারণা পেয়েছেন।

এবার আসুন হিসাববিজ্ঞান বা Accounting পড়ে যেসব ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন তাদের মধ্যে থেকে কয়েকটি সেরা Career Opportunities সম্পর্কে জানি।

অনার্সে একাউন্টিং পড়ে যেসব চাকরি পাওয়া যায়:

  • চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট
  • ফরেনসিক একাউন্ট্যান্ট
  • ফাইন্যান্সিয়াল এনালিস্ট
  • একাউন্ট ম্যানেজার
  • ভার্চুয়াল বুককিপার
  • ফাইন্যান্সিয়াল কনসালট্যান্ট
  • ইন্টার্নাল অডিটর
  • বিজনেস এনালিস্ট
  • কর্পোরেট ট্যাক্স স্পেশালিষ্ট

১. চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট

বিশ্বব্যাপী অনেক জনপ্রিয় এবং একাউন্টিং বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি হলো চার্টার্ড একাউন্ট্যান্সি (Chartered Accountancy)। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও বিসিএস জবের ভিড়ে এই পেশাটি বাংলাদেশে ওতটা জনপ্রিয় না হলেও বাইরের দুনিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়।

বাংলাদেশে যেসকল শিক্ষার্থীরা একাউন্টিং অথবা ফাইন্যান্স বিষয়ে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স পড়ে তাদের অধিকাংশের লক্ষ্য থাকে চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট হওয়া।

Chartered Accountancy হলো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত হিসাববিদ্যায় পেশাগত দক্ষতার সনদ। বাংলাদেশে এই ডিগ্রিটি দিয়ে থাকে Institute of Chartered Accountants of Bangladesh (ICAB)।

যারা এই ডিগ্রি অর্জন করে তাদেরকে বাংলাদেশে বলা হয় CA (Chartered Accountant) এবং যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপীয় দেশগুলোতে CPA বা Certified Public Accountant. 

এইচএসসি বা ব্যাচেলর সম্পন্ন করে এই ডিগ্রির জন্য পড়া যায়। মোটামুটি ৩-৪ বছর সময় লাগে এটি সম্পন্ন করতে। সিএ পাশ করা কিছুটা কঠিন হলেও ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ অনেক বেশি।

একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করেন। এটাকে অনেকেই এক্সটার্নাল অডিটরও বলে থাকেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন Chartered Accountant এর মাসিক বেতন ৪০ হাজার থেকে দেড়-দুই লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে আরও সুখকর বিষয় হলো, এই পেশায় বিদেশে কাজের সুযোগ আরো অনেক বেশি।

উল্লেখযোগ্য একটা তথ্য হলো সায়েন্স, আর্টস ব্যাকগ্রাউন্ডের কোনো বিষয়ে পড়েও চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট হওয়া যায়। তবে একাউন্টিং কিংবা ফাইন্যান্স ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসলে অবশ্যই তা অতিরিক্ত সুবিধা দেবে।

২. ফরেনসিক একাউন্ট্যান্ট

Forensic Accounting হলো হিসাববিজ্ঞানের এমন একটি শাখা যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানের ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট ও রেকর্ড পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করে দেখা হয় যে সে প্রতিষ্ঠানের সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৈধ ও আইনানুগ পন্থায় হচ্ছে কিনা।

প্রতিনিয়ত ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও পরিধি বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে ব্যবসায়ীদের অসদুপায় অবলম্বনে আশঙ্কা। কোনো কোম্পানি যেন অন্যকোনো প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত না করে তা নিশ্চিত করতে কোম্পানির সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও রেকর্ড বৈধ হতে হয়।

যারা ফরেনসিক একাউন্ট্যান্ট রয়েছেন তারা মূলত বিভিন্ন প্রয়োজনে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ব্যবসায়িক অথবা অব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আর্থিক বিবরণী, দৈনিক হিসাব বিবরণী ইত্যাদি পর্যালোচনা করেন।

ফরেনসিক একাউন্ট্যান্ট হতে হলে আপনাকে প্রথমেই একজন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট হতে হবে। পাশাপাশি কোম্পানি আইন ও অন্যান্য আইন বিষয়ে বিজ্ঞ হতে হবে।

বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বেই এই ধরনের কাজের বহু সুযোগ রয়েছে। এ অনুপাতে দক্ষ ফরেনসিক একাউন্ট্যান্ট এর সঙ্কট। তারা বেশিরভাগ সময়েই চুক্তিভিত্তিক কাজ করে থাকেন।

৩. ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট

প্রতিটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের সাথে প্রত্যক্ষ্য ও পরোক্ষভাবে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত জড়িত। একজন ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করে সম্পত্তি মূল্যায়ন করে লাভজনক প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগের সুপারিশ দেন।

ফাইন্যান্সিয়াল এনালিস্টের কাজ সম্পূর্ণ Data-driven বা তথ্য নির্ভর। সুতরাং এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে হলে বিভিন্ন গানিতিক সমস্যার সমাধান করার পর্যাপ্ত জ্ঞান ও দক্ষতা অবশ্যই থাকতে হবে।

ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট পজিশন থেকে কোম্পানির টপ পোস্টগুলোতে খুব সহজেই প্রোমোশন পাওয়া যায়। বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানি, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও স্টক এক্সচেঞ্জে এই ধরনের কাজের সুযোগ অনেক।

একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্টের বেতন শুরু হয় ৫০ হাজার থেকে এবং এটি কয়েক লাখ টাকা হতে পারে প্রতিষ্ঠান ভেদে।

৪. একাউন্ট ম্যানেজার

একজন ক্লায়েন্ট বা গ্রাহক কোনো কোম্পানির একাউন্ট ম্যানেজারের সাথে সবচেয়ে বেশি ইন্টার‍্যাক্ট করে। একাউন্ট ম্যানেজার মূলত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করে এবং তাদের হিসাব পরিচালনা করে।

চলতি ক্রেতা বা গ্রাহক ধরে রাখার চেয়ে নতুন ক্রেতা বা গ্রাহক খোঁজা একটা প্রতিষ্ঠানের জন্য তুলনামূলক ব্যয়বহুল ও ঝামেলাপূর্ণ।

একাউন্ট ম্যানেজার বা হিসাব ব্যবস্থাপকরা চলতি গ্রাহকদের হিসাব পরিচালনা করে, তাদের সাথে প্রত্যক্ষভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং ফিডব্যাক গ্রহণ করে তার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

পণ্য বা সেবা বিক্রয়কারী সকল ধরনের প্রতিষ্ঠানেই হিসাব ব্যবস্থাপক বা একাউন্ট ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হয়। একজন একাউন্ট ম্যানেজার নিয়োগের ক্ষেত্রে একাউন্টিংয়ে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, কখনো কখনো বাধ্যতামূলক উল্লেখ করা হয়।

এটি মূলত নিম্নমধ্য পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা পদ। সুতরাং এখানে বেতন কাঠামো এই লিস্টের অন্যান্য চাকরির চেয়ে ছোট। তবে প্রমোশনের ভালো সুযোগ থাকায় একাউন্টিং পড়ে এই চাকরির প্রত্যাশা অনেকেরই থাকে।

৫. ভার্চুয়াল বুককিপার

ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম এখন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইন্টারনেট দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। ধীরে ধীরে কাগজের ব্যবহার কমিয়ে সমস্ত তথ্য ইন্টারনেটে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

Bookkeeping হলো হিসাববিজ্ঞানের নীতি মেনে ব্যবসায়িক লেনদেনসমূহ লিপিবদ্ধ করা ও তা থেকে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা।

আগে এসব কাজ কাগজে-কলমে করা হতো। তবে এখন অনলাইন ভিত্তিক একাউন্টিং সফটওয়্যার দ্বারা লেনদেন লিপিবদ্ধ ও প্রয়োজনীয় স্টেটমেন্ট প্রস্তুত করা হয়।

অনলাইনে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন লিপিবদ্ধ করার এই পদ্ধতিকে ভার্চুয়াল বুককিপিং বলে। যারা Bookkeeping করে তাদেরকে বুককিপার বলা হয়।

একাউন্টিং পড়ে ভার্চুয়াল বুককিপার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরা করা একটা ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। এমনকি এটা পড়াশোনার পাশাপাশিও করা যায়।

সারাবিশ্বে বুককিপারদের ভালো রকম চাহিদা রয়েছে। Fiverr, Upwork এর মতো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে এ বিষয়ে সার্চ করলে ধারণা করা যায়।

আপনি যদি একাউন্টিং বিষয়ে ব্যাচেলর পড়েন এবং এ বিষয়ে ভালো জ্ঞান থাকে তাহলে পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স বুককিপিং করে আয় করতে পারবেন।

এছাড়া অনেকে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেও ফুল টাইম ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছে এই পেশাকে। উন্নত দেশগুলোতে ভার্চুয়াল বুককিপারদের চাহিদা বেশি।

৬. ফাইন্যান্সিয়াল কনসালট্যান্ট

ফাইন্যান্সিয়াল কনসালট্যান্সি হলো আর্থিক বিষয়ে একধরনের পেশাদারি পরামর্শ সেবা। যারা এই ধরনের সেবা দিয়ে থাকেন তাদেরকে Financial Consultant বা Financial Advisor বলা হয়।

প্রতিটি বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের সাথে ঝুঁকি জড়িত। যত বড় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, ঝুঁকি তত বেশি। আর্থিক পরামর্শক বা ফাইন্যান্সিয়াল কনসালট্যান্ট কোম্পানি ও ব্যক্তির Financial Statement পর্যালোচনা করে।

তাদেরকে লাভজনক প্রকল্পে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন এবং সম্পত্তি বৃদ্ধির চেষ্টা করেন।

ফিন্যান্সিয়াল কনসালট্যান্টরা কোনো কোম্পানিতে ফুল-টাইম কনসালট্যান্ট হিসেবে চাকরি করেন না। তারা কোনো একটা Consultancy Firm এ যুক্ত থাকেন এবং চুক্তিভিত্তিক পরামর্শ সেবা দিয়ে থাকেন।

তবে যাদের একাউন্টিং ও ফাইন্যান্স উভয় বিষয়েই ডিগ্রি থাকে তারা অনেক বেশি দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারেন ও চাহিদাসম্পন্ন হয়ে থাকেন।

৭. ইন্টার্নাল অডিটর

একাউন্টিং পড়ে যেসব চাকরি করা যায় তার মধ্যে অন্যতম লোভনীয় পজিশন হলো Internal Auditor. বড় বড় কোম্পানিগুলোতে অনেকগুলো ডিপার্টমেন্ট থাকে। আর এসব ডিপার্টমেন্টে প্রতিনিয়ত অনেক আর্থিক লেনদেন হয়।

যত বড় কোম্পানি, তত বেশি জটিল হিসাব! ফলে এসব হিসাব তৈরি, বিশ্লেষণ ও ব্যবহারোপযোগী তথ্য সরবরাহ করতে কমপক্ষে একজন ইন্টার্নাল অডিটর প্রয়োজন হয়।

অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষক বা ইন্টার্নাল অডিটর কোম্পানির সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়মমাফিক ও বৈধভাবে হচ্ছে কিনা তা পর্যালোচনা করেন।

বার্ষিক Financial Statement প্রস্তুত করেন এবং সেগুলো বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে লাভজনক বিনিয়োগ ক্ষেত্র খুঁজে বের করেন। এছাড়া সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি চিহ্নিত করে তা কীভাবে কমানো যায় সে বিষয়ে ম্যানেজমেন্টকে অবহিত করেন।

কখনো কখনো তারা ট্যাক্স সংক্রান্ত বিষয়াবলি দেখে থাকেন। এবং কোম্পানির ট্যাক্স কমানোর চেষ্টা করেন, যদিও তা বৈধ উপায়ে হতে হয়।

একজন ইন্টার্নাল অডিটর কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। মাসিক বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কারণে অনেক Accounting Graduate এর পছন্দের শীর্ষে থাকে এই চাকরি।

এগুলো ছিল একজন একাউন্টিং ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরিগুলোর কয়েকটি। এর বাইরে আরো অনেক ক্যারিয়ার অপরচুনিটি রয়েছে। যেমন বিজনেস অ্যানালিস্ট, পার্সোনাল ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজর, কর্পোরেট ট্যাক্স স্পেশালিষ্ট প্রভৃতি।

শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি যথেষ্ট?

এই প্রশ্নের খুব সোজাসাপ্টা উত্তর হলো- না, ক্যারিয়ারে ভালো কিছু করার জন্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে এই একবিংশ শতাব্দীর প্রতিযোগীতাপূর্ণ বিশ্বে তো অবশ্যই "না"।

আপনাকে কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। এর পাশাপাশি টেকনিক্যাল দক্ষতা থাকাটাও জরুরি। এমন কিছু টেকনিক্যাল স্কিল হলো মাইক্রোসফট অফিস, একাউন্টিং সফটওয়্যার, ডেটা অ্যানালাইসিস, পাইথন, প্রবলেম সলভিং ইত্যাদি।

সে সাথে পরিবর্তনশীল বাজার পরিস্থিতিও সার্বক্ষণিক নজরে রাখতে হবে। প্রথম চাকরিটা পেতে হয়তো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অনেকটা সহযোগিতা করবে। কিন্তু সে চাকরি ধরে রাখতে দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই।

ইতিকথা

এই ছিল একাউন্টিং নিয়ে পড়লে কী কী চাকরি করা যায় সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। যদিও লেখাটা আরো সংক্ষিপ্ত করতে চেয়েছিলাম। তবে তথ্যের অপর্যাপ্ততা এড়াতে লম্বা হয়ে গেছে।

একাউন্টিং সাবজেক্ট রিভিউ নিয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে তা কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ, আপনার দিনটি শুভ হোক!

পরবর্তী আর্টিকেল পূর্ববর্তী আর্টিকেল
কোনো কমেন্ট নেই
কমেন্ট লিখুন
comment url
নোটিফিকেশন
আমাদের ওয়েবসাইটের জন্য গেস্ট পোস্ট আহবান করা হচ্ছে। আপনি যদি গেস্ট পোস্ট করে ব্যাকলিংক নিতে আগ্রহী হোন তাহলে যোগাযোগ করুন।
বন্ধ করুন